‘আমার সন্তানের নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ – এমন আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন দিলশান আরা অনিমা। পোস্টে তিনি নিজেকে একজন অসহায় মা হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, তার ছেলেকে একটি ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ছেলের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে দেওয়া ওই পোস্টে দিলশান আরা অনিমা লিখেছেন, একজন মায়ের কাছে সন্তানই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। তার সন্তান বর্তমানে কারাগারে থাকায় তিনি গভীর উৎকণ্ঠা, কান্না ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে ওই মামলায় নির্দোষ এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি কারও প্রতি অন্যায় চান না উল্লেখ করে বলেন, তার সন্তান কোনো অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। আর যদি সে নির্দোষ হয়, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দিলশান আরা অনিমা দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা করে থাকে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে কিংবা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি ও কারাবন্দির সঙ্গে জড়িত থাকে, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
তিনি আরো লিখেছেন, তিনি প্রতিশোধ চান না, ন্যায়বিচার চান। তার ভাষায়, তিনি কারও ক্ষতি চান না, শুধু সন্তানের মুক্তি চান এবং সত্যের জয় প্রত্যাশা করেন।
পোস্টের শেষাংশে একজন মা হিসেবে তার সন্তানের প্রতি ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়ে দিলশান আরা অনিমা বলেন, তার সন্তানের নির্দোষিতা প্রমাণিত হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক এবং যারা অন্যায়ভাবে তাকে এই পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে, তাদেরও আইন অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।
দিলশান আরা অনিমা উপকূল জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার যুগ্ম মহাসচিব এবং দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।